বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট: ভয়েস অফ সুন্দরবন
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইসলামিয়া মিশনের পেছনে একটি বসতবাড়ি ও ভিটা জমিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বৃদ্ধ শিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার নিজস্ব বসতভিটা জাল দলিলের মাধ্যমে তার তৃতীয় স্ত্রীর সন্তানরা বিক্রি করে দিয়েছেন।
তবে শিরাজুল ইসলামের ছোট ভাই আনসার আলী ভিন্ন তথ্য দিয়ে জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণে ২০১২ সালে শিরাজুল ইসলাম তার তিন স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে সমানভাবে সম্পত্তি ভাগ করে দেন। সে অনুযায়ী তৃতীয় স্ত্রীর তিন সন্তানের নামেও উক্ত জমি লিখে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রায় তিন মাস আগে শিরাজুল ইসলামের অনুমতিক্রমেই তার তৃতীয় স্ত্রীর সন্তানরা জমিটি বিক্রি করেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি সেই বিক্রয়ের বিষয়টি অস্বীকার করছেন।
এ বিষয়ে শিরাজুল ইসলামের তৃতীয় স্ত্রীর মেয়ে ফাহিমা আক্তার বলেন,
“২০১২ সালে আমার বাবা আমাদের তিন ভাই-বোনের নামে জমিটি লিখে দেন। তিন মাস আগে আমরা বাবার অনুমতিক্রমে কোরিয়া প্রবাসী ইব্রাহিমের কাছে জমিটি বিক্রি করেছি। কিন্তু পরে আমার বাবা প্রথম স্ত্রীর ছেলে সোহেলের প্ররোচনায় আমাদের কাছ থেকে জমি ফেরত চাইছেন এবং ক্রেতাকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে দিচ্ছে না ।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রথম স্ত্রীর ছেলে সোহেল তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্য মায়ের সন্তানেরাও তাদের প্রাপ্ত সম্পত্তির অংশ ইতোমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন।
ফাহিমা আক্তারের স্বামী ফয়সাল বলেন,
“আমার শ্বশুর এবং তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিরোধ সৃষ্টি করেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে তদন্ত করে এবং সত্যতা যাচাই শেষে আমাদের পক্ষেই মত প্রদান করে। কিন্তু শ্বশুর ও সোহেল তা মানতে নারাজ।”
অন্যদিকে জমির ক্রেতা কোরিয়া প্রবাসী ইব্রাহিমের ছোট ভাই জানান,
“আমরা সব দলিলপত্র যাচাই করে আইনগতভাবে জমি ক্রয় করেছি।কিন্তু সোহেল ও তার ভাইয়েরা এবং তার পিতা সিরাজুল ইসলাম আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে দিচ্ছে না
স্থানীয় এলাকাবাসীরাও জানান, যথাযথ যাচাই-বাছাই করেই জমিটি ইব্রাহিমের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
সিরাজুল ইসলামের তৃতীয় স্ত্রীর মেয়ে ফাহিমা আক্তার ও জমির ক্রেতা কোরিয়া প্রবাসী ইব্রাহিমের পরিবার দ্রুত এ বিরোধের স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান দাবি করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধ শুধু পারিবারিক সম্পর্ককেই নয়, সামাজিক শান্তিকেও ব্যাহত করছে। তাই সকল পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় আইনগতভাবে বিষয়টির সুষ্ঠু ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করা দাবি যানায়