বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট : ভয়েস অব সুন্দরবন।।
সুন্দরবন উপকূলীয় সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ও নূরনগর ইউনিয়নের রামজীবনপুর এলাকায় আড়াই কোটি টাকার বরাদ্দে ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পি আই অফিসের তত্ত্বাবোধনে নির্মানাধীন কাজের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি দ্রুত অনুপযোগী নির্মাণ সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন ঠিকাদারকে। শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মিরাজ হোসেন খানের প্রকাশ্য সহযোগিতায় অভিযুক্ত ওই দুই রাস্তার ঠিকাদারগণ বহাল তবিয়্যাতে দুই নম্বর ও তিন নম্বর ইট দিয়ে এবং বালি কম দিয়ে তড়িঘড়ি করে আড়াই কোটি টাকার সরকারি কাজ সমাপ্ত করার জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে এই নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করলেও তার বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে ঠিকাদারদের সাথে সংশ্লিষ্টতা রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পি আই ও মিরাজ হোসেন খান রাস্তাটি শেষ করার লক্ষ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান কৌশল অবলম্বন করে ঠিকাদাদের সাথে গোপন বৈঠকে মোটা টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কাজ দুটি যে কোন মূল্যে শেষ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি কাউকে তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিম্নমানের কাজে ব্যাপক সহযোগিতা করে চলেছে যার কারণে ঠিকাদারা ইতিমধ্যে নিম্নমানের দুই নম্বর ও তিন নম্বর ইট এবং সিডিউল মোতাবেক বালি না দিয়ে রাস্তা দুটির সিংহভাগ কাজ সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার দোলনা সরদার ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান কে বারবার বিষয়টি অবগত করলে ও তিনি ঠিকাদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নানান তালবাহানা করে নিম্নমানের ইট সামগ্রী সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা শুধু প্রতারণা করেছেন তিনি। গত ৫ই আগস্টের পরে শ্যামনগরের সচেতন মহল মনে করেছিল গোপালগঞ্জ থেকে আসা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন এই এলাকার রাস্তাঘাট, কাবিটা, কাবিখা ও টিয়ার প্রকল্পের স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করবেন কিন্তু বাস্তবে সচেতন মহল দেখছেন সেই বিগত সরকারের আমলে তিনি যেভাবে বহাল তবিয়াতে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করে চলেছেন, ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় বজায় রেখে চলেছেন তিনি। গোপালগঞ্জ থেকে আসা শ্যামনগরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআই ও দুর্নীতিতে শ্যামনগরে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন তিনি শুধু হেরিং বোন রাস্তা নয়, কাবিখা, কাবিটা ও টিয়ার প্রকল্পে ও অনিয়ম দুর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এদিকে শ্যামনগরের সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে রাস্তা দুটির নির্মাণ সামগ্রীর ইট অপসারণ করার পাশাপাশি উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খানের দ্রুত অপ্রসারণ দাবি করেছেন। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, রাস্তায় কোন অনিয়ম দুর্নীতি হলে এবং নিম্নমানের ইট সামগ্রী দেওয়া হলে তা অপসারণ করা হবে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন ইতিমধ্যে আমি এলাকার অভিযোগের ভিত্তিতে রাস্তা দুটি পরিদর্শন করেছি এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ করার নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
##