বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট: ভয়েস অফ সুন্দরবন
শ্যামনগর উপজেলা ক্যামপাসের ভিতরে গার্ডেন চত্বর সহ অন্যান্য প্রায় ১৪ লাখ টাকার কাজের বরাদ্দে চলছে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীর্তি। উপজেলা প্রসাশনকে ম্যানেজ করে বিতর্কিত যুবলীগনেতা ঠিকাদার শাহিনুর রহমান শাহিন চালিয়ে যাচ্ছে পুর্বেকারমত তার কার্য্যক্রম। উপজেলা ক্যামপাস ঘিরে দীর্ঘদিনের সেই বিতর্কিত তিন ঠিকাদারের অন্যতম হচ্ছে শাহিনুর রহমান শাহিন। সে আমল আর এ আমল এই যুবলীগনেতার কাছেই সবই সমান।প্রসাশন প্রিয় ঠিকাদার শাহিনুর রহমান উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে অনিয়ম আর দুর্নীতি।২০২৫ – ২৬ অর্থ বছরে উন্নয়ন সহায়তা তহবীলের দশ লাখ টাকার কাজটি পান আরিফ ইন্টার প্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। পরে কাজের সংশোধন এনে বরাদ্দ আরো বাড়ানো হয়। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদের সাথে পরামর্শ করে ঠিকাদার শাহীন কাজ টি কিনে নেন।এদিকে শাহিন কাজটি কেনার সাথে সাথে পাল্টে যায় সিডিউল। পুর্বের সিডিউলে থাকা কিছু কাজ রেখে বাকী কাজ চেন্জ করা হয়। সহজ, লাভ জনক ও অপ্রয়োজনীয় কিছু কাজের তালিকা সিডিউলে যোগ করে দেয়া প্রসাশন থেকে। এবার আরো সুযোগ পেয়ে যায় ঠিকাদার শাহিনুর রহমান শাহিন। তার পুরো কর্তৃপক্ষ কব্জায় চলে আসে।আর সে শুরু করে ইচ্ছেমত কাজের কার্য্যক্রম।বর্তমানে সিডিউল অনুযায়ী উপজেলা ক্যামপাস চত্বরে করা হচ্ছে একটি গার্ডেন,পুকুর পাড়ে বসার জন্য তৈরী করা হচ্ছে বেন্ঞ, গার্ডেন চত্বরের দুই পাশে চিকন রাস্তা,নন কোয়ালিটি টাইলস ব্যবহার করা, উপজেলা পরিষদ ভবনের নীচে বালি দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলে সেখানে মাটি দিয়ে ভরাট করে বসার জায়গা ও ফুল বাগান তৈরীর জায়গা করা হচ্ছে। মাটির উপরে যথ সামান্য বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে উক্ত শাহিন প্রসাশন কে ম্যানেজ উপজেলার ভিতরের শিশু পার্ক সহ অন্যান্য দশ লাখ টাকার কাজ ও জোড়াতালি দিয়ে সমাপ্ত করেছে। একজন সিনিয়র ঠিকাদার বলেছেন, উপজেলা পরিষদের ভিতরের কাজ যে কেউ করতে পারেনা, কারন উপজেলা প্রকৌশলীর মনপুর্ত ঠিকাদার না হওয়া পর্যন্ত। যার কারনে বাহিরের ঠিকাদাররা কাজ পেলেও শেষ মেষ তারা অল্প কিছু টাকা কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যান।এরপর প্রসাশনের নিজস্ব আস্তাভাজন কিছু ঠিকাদার দিয়ে করানো হয় এ সকল কাজ।যেন তেন ভাবে কাজ শেষ অধিকাংশ টাকা ভাগকরে নেন ঠিকাদার আর কর্তৃপক্ষ। এভাবেই চলছে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরের কাজগুলো।ইতিমধ্যে এডিবির বরাদ্দকৃত ৫০ লাখ টাকার কাজেই ও একই অবস্থা বিরাজ করছে।সম্পুর্ন কাজ শেষ না হলেও জুনের আগেই তুলে নেয়া হয়েছে বরাদ্দের সমুদয় টাকা।সেখানেও একই সিস্টেম চালু রাখা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা পরিষদের প্রধান গেট দীর্ঘ দুই বছরের মত ঝুলে রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শেষ পর্য্যায় হলে ও দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়মের মাধ্যমে শেষ হতে যাচ্ছে। উপজেলার নুরনগর টু কুলতলী সড়কের কাজেও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি পরিলক্ষিত হলেও সেখানে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস ঠিকাদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে ঠিকাদার শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন,আমি সিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। শ্যামনগর প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন,কাজের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, রিভাইস করে নতুন কিছু কাজ করা হচ্ছে, তবে অনিয়ম দুর্নীতি কোন মতে মেনে নেয়া হবে না আর ঠিকাদারের সাথে আমাদের কোন সখ্যতা নেই, আমরা ঠিকমত কাজ বুঝে নিচ্ছি।
##