রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট জিএম রাজু আহমেদ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ীর প্রাণ খ্যাত মহিষের খালটি প্রভাবশালীরা দখলে রেখে নোনা পানি তুলে মাছ চাষ করায় ১০ হাজার বিঘা জমির ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার কাশিমাড়ী ও আটুলিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী খালটি প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখলে রেখে মাছ চাষ করায় ১০ হাজার বিঘা জমিতে ধান চাষ না করতে পেরে খেয়ে না খেয়ে জীবন অবিবাহিত হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের। এলাকার মৎস্যজীবী পরিবারগুলো মাছ ধরে জীবন অতিবাহিত না করতে পেরে জীবিকার তাগিদে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছে।
মহিষের খালটি দখলে রেখে শ্রেণি পরিবর্তন করে নোনা পানি তুলে ডুবিয়ে দিচ্ছে এলাকার কৃষক শ্রেণির মানুষের ধান চাষের জমি, গাছ গাছালি। খালটি উন্মুক্ত থাকলে এলাকার ২ লক্ষাধিক মানুষ বছরে ৩ বার ফসল নিতে পারে অথচ প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা দখলে রেখে নোনা পানি তুলে মাছ চাষ করায় এলাকায় নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। খালটি প্রভাবশালীদের দখলে থাকার কারণে
অন্তত ২০ গ্রামের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। খালটি উন্মুক্ত করে খননের জন্য এলাকাবাসী বার বার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন দিয়েছেন। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছু ব্যক্তি খালটি দখল করে রাখার জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যে কারণে প্রশাসন উন্মুক্তের জন্য তেমন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। প্রশাসন চাইলেও তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কাশিমাড়ী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জানান, খালটি প্রভাবশালী মহল দখল করে নোনা পানি তুলে মাছ চাষ করছে। তারা জাল কাগজপত্র তৈরি করেছে এবং আদালতে একটি মামলাও করেছে যে কারণে খালটি উন্মুক্ত সম্ভব হচ্ছে না। তিনি খালটি উন্মুক্ত করে খননের দাবি জানান। এ ব্যাপারে শ্যামনগরের সহকারী কমিশনার রাশেদ হোসাইন বলেন, খালটির ওপর একটি মামলা রয়েছে যে কারণে উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে সচেতন মহল দ্রুত খালটি উম্মুক্তকরনের লক্ষ্যে জাতীয় সাংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও ক্ষমতাসীন বিএনপির উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তারা আরো বলেছেন,দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন জনগুরুত্বপূর্ণ খাল খনন করে সাধারন কৃষকদের ব্যাপক ফসল ফলানো সহ জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যাপক ভুমিকা নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময় বিশাল এই সরকারী খালটি কেন একজন ব্যক্তির দখলে থাকবে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সর্ব মহল।
##