শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
খুলনা প্রতিদিনের উপকূলীয় প্রতিনিধি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রিপনের নামে বন বিভাগের মামলায় মিথ্যা ভাবে নাম জড়ানোয় সাংবাদিক সমাজের নিন্দা ও ক্ষোভ। শ্যামনগরে মুন্সিগঞ্জ জেলেখালিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ, নারীসহ ৮ জন গুরুতর আহত কদমতলা পি.ডি.কে মিতালী সংঘের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাৎসরিক তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে বনবিভাগের গুলিতে কাঁকড়া আহরোনকারী জেলে নিহত,বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় ৫বনকর্মচারী আহত। অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’: কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বন্দুকযুদ্ধে সুন্দরবনে ৩ ডাকাত আটক বিরোধী দল থেকে সংসদে একজনই মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলাম: বললেন স্পিকার মাজাট-কাশিপুরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে গৃহবধূর আত্মহত্যা শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস পরিষ্কার করলেন কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শ্যামনগরে সাংবাদিকরা র‍্যালি, আলোচনা সভা ও অবস্থান কর্মসৃচীর মধ্য দিয়ে বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবসটি পালন করলো
এইমাত্র পাওয়া:
চোখ রাখুন

শ্যামনগরে কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রিতীর অভিযোগ উঠেছে 

Reporter Name
Update Time : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন

 

রিপোর্ট – ভয়েজ অফ সুন্দরবন।
সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে সরকারি প্রণোদনা বিতরনে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে সার, বিষ ডিলারদের নিকট থেকে মাসিক মাসোয়ারা নেয়ার অভিযোগ ও। এদিকে প্রকৃত প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষরা বরাবরই সরকারী প্রনোদনা সার বীজ থেকে বঞ্চিত  হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা ও শ্যামনগর পৌর সভার দ্বায়িত্বে থাকা আহসান উল্লাহ রীতিমতো একটি নিজস্ব বলয় তৈরী করেছেন আর তাদের মাধ্যমে সরকারি কৃষি প্রনোদনা সার বীজ সামগ্রী বিতরণ করে থাকেন।ওনাদের সাথে যাদের সু-সম্পর্ক  গড়ে উঠেছে তাদের কে সরকারি এ কৃষি প্রনোদনা দেয়া হয়ে থাকে এমন অভিযোগ প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকদের । যার কারনে সরকারের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না।পৌর সভার মাহমুদপুর এলাকার কৃষক সবুরা খাতুন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে দুই বিঘা জমিতে ধান, সরিষা ও ডাল চাষ করে আসছি কিন্তু কোন দিন এক কেজি সার পায়নি,বাড়ীর পাশে রহিম ভাই কৃষি অফিস থেকে সার বীজ নিয়ে আসে তার কাছ থেকে  আমি একটু কম দামে সার বীজ কিনে থাকি। শ্যামনগরের শব্জি গ্রাম হিসাবে পরিচিত হাটছোলা গ্রামের এক কৃষক নাম প্রকাশে অনাচ্ছুক তিনি বলেন,উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ আমাদের এলাকায় মাঝে মধ্যে আসেন, ওনার নিজস্ব কিছু লোকজন আছেন, তাদের কে ছাড়া আমাদের ওনি চেনেন না, তাদের কে ওনি সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন,আমাদের ধারে পাশে আহসান উল্লাহ স্যার আসেন না,কারন আমরা তার কোন সুযোগ সুবিধা দিতে পারিনা।তিনি আরো বলেন, ওনার নিজস্ব লোকজন দিয়ে সরকারের কৃষি প্রনোদনা সার বীজ বাহিরে বিক্রী করে থাকেন এবং ওনাকে প্রত্যেক সপ্তাহে ব্যাগ ভর্তি শাক শব্জি দিতে হয়। প্রকৃত পক্ষে সরেজমিনে যেয়ে দেখা গেছে, যারা প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষক আছেন, তাদের পাশে কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা ও তার সহযোগী কর্মকর্তারা কোন দিন যান না, তাদের সুবিধা, অসুবিধা ও কোন পরামর্শ কৃষকদের দেন না ।যার কারনে প্রকৃত প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকরা বরাবরই সরকারী কৃষি প্রনোদনা থেকে বঞ্চিত  হচ্ছে। এ দিকে সরকারি কৃষি প্রনোদনা  নিয়ে জন প্রতিনিধীদের সাথে কোন মিটিং করা হয় না, কাউকে প্রকৃত মোট বরাদ্দের তথ্য দেয়া হয় না,মৌখিক ভাবে একটি বরাদ্দ জানিয়ে দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে লাম ছাম কিছু কৃষকদের তালিকা নেয়া হয়,এমনটি জানিয়েছে একাধিক জনপ্রতিনিধীরা আর অধিকাংশ কৃষি প্রনোদনা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে স্বজন প্রিতীর দ্বারা অকৃষকদের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং আরো একটি অংশ নিজস্ব ডিলারের কাছে তাদের মাধ্যমে বাহিরে বিক্রী করে দেয়া হয় এমন অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে । এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা অধিকাংশ হাট বাজার, ইউনিয়ন ও ওযার্ড পর্য্যায় সার, বীজও কীটনাশক এর দোকান গড়ে উঠেছে। সরকারি বৈধ ডিলার ছাড়াই তারা বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ব্যবসা। যার কারনে ভেজাল সার বীজে ভরে গেছে পুরো উপজেলার জনপদ, সে কারনে কৃষি ফসল ফলাতে সাধারন কৃষকরা প্রায় ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এদের নিকট থেকে কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা ও তার উপ- সহকারী কর্মকর্তারা মাসিক মাসোয়ারা নিচ্ছেন। যার কারনে এই কৃষি কর্মকর্তা আসার পর একদিন ও কোন ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয় নি। এছাড়া প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকদের ট্রেনিংয়ের জন্য সরকারী আসা লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ও  তিনি খাতা কলমে ঠিক রেখে আত্মসাৎ করে চলেছেন। শ্যামনগরের অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষকরা  দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগরে অবস্থানরত কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদার কার্য্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, দ্রুত এই কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা অপসারন করার, তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা তাকে অপসারণ করবেই এমনটি জানিয়েছে কয়েকটি কৃষক সংগঠনের সদস্যরা। ##