বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
শ্যামনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: তিন বেকারিকে জরিমানা, নষ্ট করা হলো মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে নবাগত অফিসার ইনচার্জ এর সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  শ্যামনগর নাগবাটিতে মসজিদের পুকুর দখল করার পায়তারা ও হুমকি ধামকির প্রতিবাদে মানববন্ধন কালভার্ট নির্মাণে চরম গাফিলতি: কাদায় নাকাল ৩ গ্রামের মানুষ, ব্যাহত শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা শ্যামনগরে মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মাছের খাদ্য ও চারা বিতরণ সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা কল্যাণমুখী ব্যাংকিং সেবা মাস উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংক শ্যামনগর শাখায় গ্রাহক সমাবেশ শ্যামনগরে আড়াই কোটি টাকার বরাদ্দের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, ভুক্তভোগী মহল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খানের অপসারণ দাবি করেছেন  শ্যামনগর ও কয়রাতে গোবরা হার্বোরিং/ ঘাট এর হস্তান্তর অনুষ্ঠান
এইমাত্র পাওয়া:
চোখ রাখুন

উপকুলীয় গ্রামীণ ঐতিহ্যেরে লুপ্তপ্রায় সামগ্রী রক্ষায় প্রদর্শনী ও সংলাপ

জি এম রুস্তুম আলী
Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট: জিএম রুস্তম আলী

 

প্রাচীন কাল হতে উপকুলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হতো নানান ঐতিহ্যবাহী উপকরণ। যা ছিলো গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। উপকুলীয় এলাকায় লবনাক্ততা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং আধুনিক পন্যের ব্যবহার সম্প্রসারণের কারণে এগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। লুপ্তপ্রায় এসকল ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও কৃষি উপকরণ সংরক্ষণ, টিকিয়ে রাখা ও ব্যবহার বৃদ্ধিতে উপকূলীয় গ্রামীণ ঐতিহ্যেরে লুপ্তপ্রায় সামগ্রী রক্ষায় প্রদর্শনী ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ৩টায় শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালী গ্রামে স্থানীয় জনগোষ্টী, সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম, সবুজ সংহতি ও বেসরকারী উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীতে ২০ টি স্টলে বিভক্ত হয়ে উপকূলীয় এলাকার হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন গ্রামীন নিদর্শন বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে প্রদর্শন করেন।

 

প্রদর্শনীর মধ্যে ছিলো লাঙল, যোয়াল, লাটি, ঠুশি, মই, পাখে, নিড়ানি, দা, কুড়াল, বটি, কাশি, হামান দিস্তা, শিল, নোড়া, পোলো, ঝুড়ি, বাজারা, খারা, হুকো, সাবল, ডোল, চাঙারি, মাটির মাঠে, কলস, পিতলের বিভিন্ন উপকরন, হারিকেন, টেমি, ঝাতি, বিভিন্ন ধরনের জাল, পুজার সামগ্রী, কাস্তে, ছেমত, হাসো, দোড়া, পাটের বস্তা, চালন, কুলো, কলকে, বাটি, মাটে কলস, কাসার জিনিস, ঢেকি, দাড়িপাল্লা, বিচলি কাটার বটি, ঘন্টা, তামার পয়সা, বাবুই পাখির বাসা, লাউয়ের খোল, পিড়ি, রেডিও, টর্চ লাইচ, মাটির ব্যাংক, রুটির তাবা, পিড়ি, ধামা, হরিনের শিং সহ প্রায় হাজার খানেক উপকরণ।

 

এসময় প্রদর্শনকারীরা জানান যে, আমরা একসময় কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিলাম এবং জীবন-জীবিকা, জ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে এসকল উপকরণ ব্যবহার করতাম। কালের পরিক্রমায় সেগুলো আজ রুপকথার গল্প হয়ে গেছে। আমরা এখন গ্রাম অঞ্চলে এগুলোর ব্যবহার কম করলেও তা সংরক্ষণে রাখার চেষ্টা করছি। এগুলো সম্পর্কে আমাদের সন্তান ও নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিতি করার জন্য আমরা এ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।

 

প্রদর্শন পরবর্তী সংলাপে স্থানীয় কৃষক ভূধর চন্দ্র মন্ডল এর সভাপতিত্বে হারিয়ে যাওয়া এসকল গ্রামীন নিদর্শন টিকিয়ে রাখতে এসব জিনিসের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ ইউপি সদস্য দেবাশিষ মন্ডল, ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাছুম বিল্লাহ, কৃষানী লতা রানী মন্ডল, এসএসএসটির আহ্বায়ক প্রকাশ মন্ডল, গৌতম সরদার, শিক্ষার্থী জবা মন্ডল প্রমুখ।

 

বক্তরা বলেন, কালের বিবর্তনে উপকুলীয় এলাকা থেকে প্রতিনিয়িত হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। কিন্তু আধুনিক কৃষির আগ্রাসন, লবনাক্ততা বৃদ্ধি সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এসব বিলুপ্ত হচ্ছে। তাই এসব দুর্বলতাকে পাশ কাটিয়ে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীন নিদর্শন লালন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে পরিচিত করতে হবে। তারা যেন এই ঐতিহ্য থেকে বিছিন্ন হযে না পড়ে। তার জন্য সকলে একত্রিত হয়ে সংরক্ষণের ভূমিকা রাখতে হবে।