সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
শ্যামনগরে “জলবায়ু সংকট ও স্থানীয় অভিযোজন” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় ক্রাইম কনফারেন্সে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান শ্রেষ্ঠত্ব নূরনগরে জামায়াতে কর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত উপকূলীয় উন্নয়নে এগিয়ে এলো ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স: শ্যামনগরে আদর্শ গ্রাম গঠনের প্রত্যয় শ্যামনগরে মরহুমা মমতাজ ওয়াহেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শ্যামনগর বি আর ডিবির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন বিএনপি নেতা মাষ্টার আব্দুল ওয়াহেদ  শ্যামনগর সদর হাসপাতাল পরিস্কারের মাধ্যমে কার্য্যক্রম শুরু করলেন এম পি গাজী নজরুল ইসলাম  সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গভীর রাতে বাড়িতে আগুন, ঘরসহ মালামাল পুড়ে ছাই শ্যামনগরে বৃদ্ধের বসতভিটা দখলের মিথ্যা অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধে উত্তেজনা নুরজাহান পারভীন ঝর্না কে সংরক্ষিত নারী এম পি হিসাবে পেতে চায় সাতক্ষীরাবাসী
এইমাত্র পাওয়া:
চোখ রাখুন

উপকুলীয় গ্রামীণ ঐতিহ্যেরে লুপ্তপ্রায় সামগ্রী রক্ষায় প্রদর্শনী ও সংলাপ

জি এম রুস্তুম আলী
Update Time : সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

রিপোর্ট: জিএম রুস্তম আলী

 

প্রাচীন কাল হতে উপকুলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হতো নানান ঐতিহ্যবাহী উপকরণ। যা ছিলো গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। উপকুলীয় এলাকায় লবনাক্ততা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং আধুনিক পন্যের ব্যবহার সম্প্রসারণের কারণে এগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। লুপ্তপ্রায় এসকল ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও কৃষি উপকরণ সংরক্ষণ, টিকিয়ে রাখা ও ব্যবহার বৃদ্ধিতে উপকূলীয় গ্রামীণ ঐতিহ্যেরে লুপ্তপ্রায় সামগ্রী রক্ষায় প্রদর্শনী ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ৩টায় শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালী গ্রামে স্থানীয় জনগোষ্টী, সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম, সবুজ সংহতি ও বেসরকারী উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীতে ২০ টি স্টলে বিভক্ত হয়ে উপকূলীয় এলাকার হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন গ্রামীন নিদর্শন বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে প্রদর্শন করেন।

 

প্রদর্শনীর মধ্যে ছিলো লাঙল, যোয়াল, লাটি, ঠুশি, মই, পাখে, নিড়ানি, দা, কুড়াল, বটি, কাশি, হামান দিস্তা, শিল, নোড়া, পোলো, ঝুড়ি, বাজারা, খারা, হুকো, সাবল, ডোল, চাঙারি, মাটির মাঠে, কলস, পিতলের বিভিন্ন উপকরন, হারিকেন, টেমি, ঝাতি, বিভিন্ন ধরনের জাল, পুজার সামগ্রী, কাস্তে, ছেমত, হাসো, দোড়া, পাটের বস্তা, চালন, কুলো, কলকে, বাটি, মাটে কলস, কাসার জিনিস, ঢেকি, দাড়িপাল্লা, বিচলি কাটার বটি, ঘন্টা, তামার পয়সা, বাবুই পাখির বাসা, লাউয়ের খোল, পিড়ি, রেডিও, টর্চ লাইচ, মাটির ব্যাংক, রুটির তাবা, পিড়ি, ধামা, হরিনের শিং সহ প্রায় হাজার খানেক উপকরণ।

 

এসময় প্রদর্শনকারীরা জানান যে, আমরা একসময় কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিলাম এবং জীবন-জীবিকা, জ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে এসকল উপকরণ ব্যবহার করতাম। কালের পরিক্রমায় সেগুলো আজ রুপকথার গল্প হয়ে গেছে। আমরা এখন গ্রাম অঞ্চলে এগুলোর ব্যবহার কম করলেও তা সংরক্ষণে রাখার চেষ্টা করছি। এগুলো সম্পর্কে আমাদের সন্তান ও নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিতি করার জন্য আমরা এ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।

 

প্রদর্শন পরবর্তী সংলাপে স্থানীয় কৃষক ভূধর চন্দ্র মন্ডল এর সভাপতিত্বে হারিয়ে যাওয়া এসকল গ্রামীন নিদর্শন টিকিয়ে রাখতে এসব জিনিসের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ ইউপি সদস্য দেবাশিষ মন্ডল, ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাছুম বিল্লাহ, কৃষানী লতা রানী মন্ডল, এসএসএসটির আহ্বায়ক প্রকাশ মন্ডল, গৌতম সরদার, শিক্ষার্থী জবা মন্ডল প্রমুখ।

 

বক্তরা বলেন, কালের বিবর্তনে উপকুলীয় এলাকা থেকে প্রতিনিয়িত হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। কিন্তু আধুনিক কৃষির আগ্রাসন, লবনাক্ততা বৃদ্ধি সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এসব বিলুপ্ত হচ্ছে। তাই এসব দুর্বলতাকে পাশ কাটিয়ে আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীন নিদর্শন লালন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে পরিচিত করতে হবে। তারা যেন এই ঐতিহ্য থেকে বিছিন্ন হযে না পড়ে। তার জন্য সকলে একত্রিত হয়ে সংরক্ষণের ভূমিকা রাখতে হবে।