বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
শ্যামনগরে “জলবায়ু সংকট ও স্থানীয় অভিযোজন” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় ক্রাইম কনফারেন্সে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান শ্রেষ্ঠত্ব নূরনগরে জামায়াতে কর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত উপকূলীয় উন্নয়নে এগিয়ে এলো ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স: শ্যামনগরে আদর্শ গ্রাম গঠনের প্রত্যয় শ্যামনগরে মরহুমা মমতাজ ওয়াহেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শ্যামনগর বি আর ডিবির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন বিএনপি নেতা মাষ্টার আব্দুল ওয়াহেদ  শ্যামনগর সদর হাসপাতাল পরিস্কারের মাধ্যমে কার্য্যক্রম শুরু করলেন এম পি গাজী নজরুল ইসলাম  সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গভীর রাতে বাড়িতে আগুন, ঘরসহ মালামাল পুড়ে ছাই শ্যামনগরে বৃদ্ধের বসতভিটা দখলের মিথ্যা অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধে উত্তেজনা নুরজাহান পারভীন ঝর্না কে সংরক্ষিত নারী এম পি হিসাবে পেতে চায় সাতক্ষীরাবাসী
এইমাত্র পাওয়া:
চোখ রাখুন

যশোর শার্শায় সাতমাইল পশুর হাট ফের চালু

মনির হোসেন
Update Time : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

 

মনির হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধি:-
টানা বন্ধের পর দেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের সব চেয়ে বড় যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ার সাতমাইল পশুর হাট নতুন করে চালু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে আনন্দ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর), সকাল থেকে হাটটিতে গরু ছাগল এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে ভরে ওঠে।

জানা যায়, স্বৈরাচার সরকারের আমলে হাটটি ইজারা না নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হাটটি পরিচালনা করতো স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস কবির বকুল ও কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান ফিরোজ টিংকু।

তাদের কাছ থেকে ব্যাপারীরা ৩ হাজার টাকা করে ব্যাপারী কার্ড গ্রহন করলেও গরু প্রতি তাদের কাছ থেকে ৫ শত টাকা করে আদায় করা হতো এবং সাধারণ ক্রেতাদের কাছে থেকে গরু প্রতি এক হাজার থেকে ১২ শত টাকা আদায় করা হতো। অথচ গরু হাট ইজারা না হওয়ায় সরকারি পাশ মুল্য ছিলো ৪ শত থেকে ৬ শত টাকা। স্বৈরাচার পতনের পরে হাটটি পরিচালনায় আওয়ামীলীগের ওই সকল নেতা গা ঢাকা দিলে ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে হাটটি ২ দিন পরিচালনা করছিলেন উপজেলা প্রশাসন।

কিন্তু আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন সভাপতি বকুল ও টিংকুর কাছ থেকে করা ব্যাপারী কার্ড এর কোন সুবিধা পাইনি কার্ডধারী ব্যাপারীরা। হাটে কার্ডধারী ব্যাপারী ও সাধারণ ক্রেতাদের একই মুল্যে প্রতিটি গরুর পাশ শুরু হলে ক্ষোভে ফুসে উঠে কার্ডধারী ব্যাপারীরা। হাটে আন্দোলন শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটার আশংকায় তখন হাটটি বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

পরে বাগআঁচড়া সাতমাইল গরু হাট বন্ধ ঘোষনায় বিপাকে সাধারণ ক্রেতা ও গরু ব্যবসায়ীরা এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে সেটি প্রশাসনের নজরে আসে এবং মঙ্গলবার থেকে গরুর হাটটি নতুন করে খুলে দেন উপজেলা প্রশাসন।

গরুর ব্যাপারী আজম বলেন, আমি ১৯৯৬ সাল থেকে এই হাটের সাথে জড়িত। এখানে গরু কেনা বেচা করি। এবার হাটটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা হতাশায় ভুগছিলাম। কারণ সারাবছর ধরে খামারের গরু লালন-পালন করে এখন মাথায় হাত দেওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। বাইরে থেকে ব্যাপারী না এলে আমাদের গরু লোকশানে বেচাকেনা করতে হতো। এখন পশু হাটটি সচল হওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছি।

বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর হোসেনের বলেন, এই হাটটি এর আগে প্রায় ১০ বছর ইজারা নিয়ে চালিয়েছে এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে হাট পরিচালনা করেছে। চলতি বছর হাটের কোন ইজারা তারা না নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা হাটটি পরিচালনা করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শেখ হাসিনার পতন হওয়ার পর হঠাৎ প্রশাসন হাটটি বন্ধ করে রেখেছেন এটা দুঃখজন। এই হাট থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতে প্রশাসন ও জড়িত ছিলো বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, সাতমাইল গরু হাটটি পরিচালনা করতে ১৩০ থেকে ১৫০ জন জনবল প্রয়োজন। এতো জনবল উপজেলা প্রশাসনের না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে কিছুদিন হাটটি বন্ধ রাখা হয়েছিলো। পরে উর্ধতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে তাদের নির্দেশে পশু হাটটি আবারও চালু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য দক্ষিন বঙ্গের সব থেকে বড় পশুহাট শার্শার সাত মাইল পশুহাট। এখানে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার দুই দিন হাট বসতো। দুই দিনের এ হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল বেচাকেনা হয়। সরকারি ভাবে প্রতি বছর মোটা অংকের টাকায় এ হাট ইজারা দেওয়া হয়।

বাংলা ১৩২৮ সালে সাত মাইল পশুহাটের ইজারা ডাক ছিল সাড়ে ৮ কোটি টাকা, ১৩২৯ সালে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ও ১৩৩০ সালে এ হাটের ডাক ছিল সাড়ে ১০ কোটি টাকা। তবে নতুন বছর ১৩৩১ সালে এ হাটের কোন ডাক বা ইজারা হয়নি। যে কারনে পূর্বের ইজারাদারেরা সরকারি আইন অমান্য করে হাটের খাজনা আদায় করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছে। #