শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট: ভয়েস অফ সুন্দরবন
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর পৌরসভার চিংড়াখালী, কল্যাণপুর এবং মানিকপুর গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র প্রধান রাস্তায় (চিংড়াখালী-কল্যাপনপুর, মানিকপুর রাস্তা) কালভার্ট নির্মাণ কাজের চরম ধীরগতি ও অবহেলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিন গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। বিকল্প হিসেবে তৈরি করা মাটির ডাইভারশন (বিকল্প রাস্তা) সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছে চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের শত শত ছাত্র-ছাত্রী। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অবহেলাকে এ দুর্ভোগের জন্য দায়ী করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিংড়াখালী, কল্যাণপুর ও মানিকপুর গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই রাস্তাটি। সম্প্রতি এই রাস্তার ওপর একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী মূল রাস্তা কেটে কাজ শুরু করার আগে জনগণের চলাচলের জন্য একটি শক্ত ও টেকসই বিকল্প রাস্তা (ডাইভারশন) তৈরি করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র মাটির রাস্তা তৈরি করে কাজ ফেলে রাখে। বর্তমানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পুরো বিকল্প রাস্তাটি চলাচলের অনপুযোগী হয়ে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা কাদার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। অনেক শিক্ষার্থী পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে। রাস্তায় যে কোনো প্রকার যানবাহন, বা ভ্যানও ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ফলে কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঠিকাদার এবং উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তদারকির অভাবে এই জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। কাজ শুরুর পর দীর্ঘদিন পার হলেও কালভার্ট নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।”
চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টি হলে কাদার মধ্যে দিয়ে তাদের স্কুলে আসতে হচ্ছে। অবিলম্বে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী না করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
৩ গ্রামের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ করা এবং জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প রাস্তায় ইট বা খোয়া বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।