বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

রিপোর্ট: ভয়েস অফ সুন্দরবন
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নে ৫ই আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে এক ব্যক্তির বসতবাড়ি ও দোকানঘর জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোঃ আবুল বাসার সানা (৫০) গত কয়েকদিন আগে পাউখালী সেনা ক্যাম্পে এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল বাসার সানা কাশিমাড়ী মৌজায় এস,এ১৭ নং খতিয়ানে ৭৯৮ দাগে পশ্চিম বিড়ালক্ষ্মী সাকিনের রুহুল আমিন গাজীর নিকট থেকে বিগত ইংরেজি ১৪/৩/২০০৬ তাং শ্যামনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৮৯৫ নং দলিলে ০৫ শতক খরিদা জমিতে নিজ নামে খারিজ করতঃ জমিতে কাশিমাড়ী বোল্লারটোপ মোড় মাছের কাঁটা সংলগ্ন নিজ জমিতে বসতবাড়ি তৈরি করে পরিবার নিয়ে দীর্ঘ বছর বসবাস করে আসছিলেন। গত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে একই এলাকার আশরাফুল হক সরদারের তিন পুত্র—মোঃ আক্তার ফারুক, মোঃ জামাল ফারুক ও মোঃ আব্দুল কাদের স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়ি ও দোকান জবরদখল করে নেয়।
ভুক্তভোগী আবুল বাসার জানান, “আমি বাড়িতে না থাকায় আমার ছেলে ওমর ফারুক একা ছিল। বিবাদীরা বাড়িতে ঢুকে ঘরবাড়ির গাঁথা ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। এছাড়াও তারা ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে আমাকে ভিটেমাটি ছাড়া করেছে। বর্তমানে আমার বাড়ির সামনের দোকানঘরটি তারা জোর করে ভাড়া দিয়ে টাকা আদায় করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাড়ি বা দোকান উদ্ধারের চেষ্টা করলে বিবাদীরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জনাব আজিজুল হক সরদারকে বিষয়টি জানালেও কোনো সমাধান পাননি। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি গোষ্ঠী এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে অন্যের সম্পদ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। কাশিমাড়ী নতুন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটি দখল নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এই বিষয়ে পাউখালী সেনা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানানো হয়, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জবরদখল হওয়া জায়গা ও ঘরবাড়ি ফিরে পেতে এবং বিবাদীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।