সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট: ভয়েস অফ সুন্দরবন
সাতক্ষীরা, শ্যামনগর (কাশিমাড়ী): বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব এবং আসন্ন ব্রাজিলের বেলেম শহরে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩০)-এর দিকে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৯টায় শ্যামনগরের কাশিমাড়ীতে জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
উপকূলীয় যুব সেচ্ছাসেবী সংগঠন কোস্টাল ইয়ূথ নেটওয়ার্ক, জনকল্যাণ সংস্থা, এবং সোস্যাল একশন ফর ইয়ুথ এ্যায়ালেন্স-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
উপকূলের সংকট এবং তরুণদের উদ্বেগ
বক্তারা জলবায়ু ন্যায্যতার দাবি তুলে ধরে বলেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব পড়ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রধান সংকটগুলো হলো:
* ঘূর্ণিঝড়
* লবনাক্ততা বৃদ্ধি
* নদীর বাঁধ ভাঙ্গন
* তীব্র পানি সংকট
* খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
* স্বাস্থ্য ঝুঁকি
* জীবন ও জীবিকার ওপর চরম প্রভাব
বক্তারা উল্লেখ করেন, এই ক্ষতির জন্য বাংলাদেশসহ ভুক্তভোগী দেশগুলো কোনোভাবেই দায়ী নয়। বরং ঐতিহাসিকভাবে যারা কার্বন দূষণের জন্য দায়ী, তাদেরকেই এই দায় স্বীকার করে জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইতোমধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এই অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বক্তাদের আহ্বান: যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও জাস্ট ট্রানজিশন
উক্ত স্ট্রাইক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কোস্টাল ইয়ুথ নেটওয়ার্কের আবু জাফর, সুমন ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, মোকাররম বিল্লাহ, আখি ইসলাম, আবিদ হাসান, জাহিদ হাসান, মারিয়া, তুহা ইসলাম, মিরা সুলতানা, সজীব হাসান প্রমুখ।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশসহ যে সকল দেশগুলো সাগরে চরে গড়ে উঠেছে সেই সকল দেশগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”
তাই তারুণ্যের পক্ষ থেকে বিশ্বনেতাদের প্রতি মূল দাবিগুলো হলো:
* জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ ও জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়ন করা।
* কপ৩০-এ শুরু হওয়া জাস্ট ট্রানজিশন (ন্যায্য রূপান্তর) আলোচনায় গুরুত্ব দিতে হবে।
* জাস্ট ট্রানজিশন ওয়ার্ক প্রোগ্রামের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করা।
* বাস্তবায়নের রোড ম্যাপ তৈরি করা।
* শর্তহীন প্রযুক্তি সহায়তা বৃদ্ধি করা।
* আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
বক্তারা দৃঢ়তার সাথে বলেন, “ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপান্তরই হতে পারে টেকসই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।” ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এখনই জলবায়ু ন্যায্যতা, জলবায়ু তহবিল এবং ন্যায্য রূপান্তরে বিশ্ব মোড়লদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এই ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হলো।