শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট ভয়েস অফ সুন্দরবন
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজন ও এক সাংবাদিকের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার এবং প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গত ১৫ জুলাই ২০২৬ (বুধবার) সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ওইদিন জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দার চিকিৎসা নিতে আসা এক মুমূর্ষু রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি রোগীর স্বজনদের প্রতি চরম অসৌজন্যমূলক ও অমানবিক আচরণ করতে থাকেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত। জরুরি বিভাগের মতো সংবেদনশীল স্থানে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখে এবং রোগীর স্বজনদের অনুরোধে তিনি বিষয়টি শান্ত করার জন্য মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন। তিনি চিকিৎসককে সংযত আচরণ এবং রোগীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান।
অভিযোগ রয়েছে, এতে চিকিৎসক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সাংবাদিকের উপস্থিতিতেই রোগীর চিকিৎসার জন্য লিখিত প্রেসক্রিপশনটি ছিঁড়ে ফেলেন। একই সঙ্গে তিনি অকথ্য ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একজন সরকারি চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন আচরণ একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তারা বলেন, “সরকারি হাসপাতালে যদি চিকিৎসকদের কাছ থেকেই এমন দুর্ব্যবহার পেতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এ ধরনের আচরণই মানুষকে বেসরকারি ক্লিনিকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।