বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
শ্যামনগরে “জলবায়ু সংকট ও স্থানীয় অভিযোজন” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় ক্রাইম কনফারেন্সে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান শ্রেষ্ঠত্ব নূরনগরে জামায়াতে কর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত উপকূলীয় উন্নয়নে এগিয়ে এলো ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স: শ্যামনগরে আদর্শ গ্রাম গঠনের প্রত্যয় শ্যামনগরে মরহুমা মমতাজ ওয়াহেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শ্যামনগর বি আর ডিবির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন বিএনপি নেতা মাষ্টার আব্দুল ওয়াহেদ  শ্যামনগর সদর হাসপাতাল পরিস্কারের মাধ্যমে কার্য্যক্রম শুরু করলেন এম পি গাজী নজরুল ইসলাম  সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গভীর রাতে বাড়িতে আগুন, ঘরসহ মালামাল পুড়ে ছাই শ্যামনগরে বৃদ্ধের বসতভিটা দখলের মিথ্যা অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধে উত্তেজনা নুরজাহান পারভীন ঝর্না কে সংরক্ষিত নারী এম পি হিসাবে পেতে চায় সাতক্ষীরাবাসী
এইমাত্র পাওয়া:
চোখ রাখুন

সুন্দরবন উপকূলে পরিত্যক্ত খোলস থেকে তৈরি হচ্ছে কাকড়া সার

এডভোকেট শহিদুল ইসলাম
Update Time : বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

এডভোকেট শহিদুল ইসলাম ,শ্যামনগর।

সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলে রাতের আঁধারে মৎস্য ও কাকড়া চাষীদের কাকড়ার খোলস ফেলে দিতে হতো। যেখানে ফেলা হতো দুর্গন্ধের কারণে সেখানে কেউ টিকতে পারতো না। সেই খোলস থেকে এখন নির্মাণ হচ্ছে মূল্যবান ‘কাকড়া সার’।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের শেষ জেলা সাতক্ষীরায় আছে তিন শতাধিক কাকড়া খামার। এখানে হার্ডসেল (শক্ত খোলসের) ও সফট সেল (নরম খোলসের) কাকড়া চাষাবাদ করা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ কাকড়ার খোলস বের হয়। কিন্তু সমস্যা হলোÑএই খোলস রাখা হবে কোথায়? তখন এর পথ দেখালেন নওয়াবেকী গ্রামের চাষী আসলাম হোসেন। ফেলনাকে বানালেন মূল্যবান সম্পদ।

আসলাম ছিলেন দরিদ্র মৎস্যচাষী। তবে এর সাথে তার বাড়িতে ছিল ছাঁদ বাগান। সেই ছাদ বাগানে তিনি বরাবরই দিতেন জৈব সার। এরপর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ওই ছাঁদ বাগানের গাছে দিতেন কাকড়ার খোলসগুড়ো করা সার। গাছগুলো হয়ে উঠলো লকলকে। এরপরই তিনি এ নিয়ে স্থানীয় এনজিও এনজিএফের সহায়তায় এগিয়ে যেতে থাকলেন। পরিত্যক্ত কাকড়ার খোলস আর বাড়িতের রান্নার তরিতরকারির বর্জ্য নিয়ে বানাতে থাকলেন কাকড়া সার।

কাকড়া সার স্থানীয় মৎস্যচাষীরা ঘেরে দিলেন, তাতেও উপকার পেতে থাকলেন। প্রথম দিকে দুই পাঁচজন করে করে ত্রিশটি ঘেরের চাষীরা ত্রিশটাকা কেজি দরে তুলনামূলক অনেক কম মূল্যে ওই কাকড়া সার দিয়ে অসামান্য উপকার পেলেন। এরপর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ পেয়ে এই সারের গুনবার্তা ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র।

এদিকে এই ক্রাব শেল পাউডার যা এলাকায় কাকড়া সার নামে পরিচিত সেই সারের উদ্ভাবক আসলাম হোসেন বলেন, তিনি এই সার বিক্রি করে এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন। মাসে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা আয় করছেন এই সার বিক্রি করে।

প্রসঙ্গত, আসলাম হোসেনের দেখাদেখি আরও ৫জন উদ্যোক্তা এই ক্রাব শেল পাউডার যা এলাকায় কাকড়া সার তৈরী করছে এবং ব্যবসা করছে। সবাই এটিকে বড় কৃষি অর্থনৈতিক খাত বলেও মনে করছেন।