রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট: ভয়েস অফ সুন্দরবন
বেড়ীবাঁধ রক্ষা করতে যেয়ে পুরো একটি গ্রাম হুমকির মধ্যে, আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঝাপা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। তাদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে পাউবো কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। পাউবো কর্মকর্তা ও সাফ ঠিকাদার লোকালয় সংলগ্ন খোলপেটুয়া ও কপোতক্ষ নদী থেকে প্রতিনিয়ত রাতে দিনে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছেন।প্রসাশন আর রাজনৈতিক কতিপয় নেতাদের জিম্মি করে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি মাদিয়া এলাকার বেড়ীবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হলে সরকারীভাবে সেখানে জিও বস্তা ফেলে ভাঙনরোধের কাজ শুরু হয়েছে।দেখভালের দ্বায়িত্বে রয়েছেন পাউবো কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। তিনি ভাঙনের মাত্র একশ” গজ দুর থেকে বালি উত্তোলন করছেন সম্পুর্ন অবৈধ ভাবে। বর্তমানে বালু মহলের কোন ডাক না থাকায় অবৈধ ভাবে ইচ্ছেমত যে যেভাবে পারছে যেখান সেখান থেকে বালি উত্তোলন করছেন। উক্ত কাজের সাব ঠিকাদার মুজাহিদ ও পাউবো কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম দাঁড়িয়ে থেকে পদ্ধপুকুর ইউনিয়নে গনবসতি ঝাপা গ্রাম সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর চর থেকে সম্পুর্ন অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বস্তায় ভরছেন।যেখানে বস্তা ডাম্পিং করছেন তার মাত্র একশ” গজ দুর থেকে বালি উত্তোলন করে বস্তায় ভরা হচ্ছে। প্রত্যেক বস্তায় আড়াইশ” কেজি করে বালি ভরতে হবে কিন্ত বালি না মেপে ইচ্ছেমত ভিজে বালু বস্তায় ভরা হচ্ছে। শ্রমিকরা বলেন,কার্গো দিয়ে আমরা বালু তুলে বস্তায় ভরছি,কোন বস্তায় বালু কম মনে হলে সেই বস্তাটাই মাপ দেয়া হয়। তবে কৌশলগত ভাবে বস্তায় বালি কম দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে লোকালয় থেকে ইচ্ছেমত বালু উত্তোলন করায় ঝাপা গ্রামটি একেবারেই ঝুকির মধ্যে পড়েছে।এবার বালু মহলের ডাক বন্ধ থাকায় সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে আসা খোলপেটুয়া আর কপোতক্ষ নদী দুটি থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ফুট বালি সম্পুর্ন অবৈধ ভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। জনবসতি লোকালয়ের মধ্যে ঢুকে পড়া এই দুই নদী থেকে যদি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ফুট বালি উত্তোলন করা হয়, তাহলে উপকুলীয় গাবুরা, পদ্ধপুকুর, আটুলিয়া, কাশিমাড়ী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক গ্রাম ঝুকির মধ্যে পড়বে। সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ, কোষ্টগার্ড,নৌ-থানা সহ উপজেলা প্রসাশনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারন ভুক্তভোগী মহল। অনেকেই বলেছেন শক্তিশালী বালু লুটকারী চক্রের কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছে। এদিকে ঝাপাবাসি গ্রাম রক্ষার দাবীতে দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবী করেছেন প্রসাশনের কাছে।পাউবোর কাজে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় এলাকার সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি পাউবো কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম এর অপসারণ দাবী করেছেন। তবে পাউবো কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেছেন বালি উত্তোলন করছে ঠিকাদারের লোকজন আর আমাদের কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না।
##