রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
শ্যামনগরে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা, মা-মেয়ে আহত শ্যামনগরে অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান পুড়ে ছাই, লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি কোডেক এর উদ্যোগে শ্যামনগরের মানুষ পেল বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষধ বনদস্যু আতঙ্ক নিয়ে মধু আহরণে সুন্দরবনে যাচ্ছেন মৌয়ালরা সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চলছে খোলপেটুয়া নদীর চর অবৈধ দখল ও ভরাট সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর আস্তানা ধ্বংস ও মালামাল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড যাত্রা শুরু হলো কোস্টাল ইয়ুথ সোসাইটি ( Cys) নামীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের  শ্যামনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন শ্যামনগরে “স্থানীয় জলবায়ু সংকট, জনগোষ্ঠীর সমাধান ও দাবি” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
এইমাত্র পাওয়া:
চোখ রাখুন

সুন্দরবনের কেওড়া ফলটি উপকূলী এলাকায় মানুষের প্রিয় খাদ্য

Reporter Name
Update Time : রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন

 

 

মজনু এলাহি, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে।।

সুন্দরবন অঞ্চলের সবচেয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত গাছ কেওড়া লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়। সারি সারি সবুজে ভরা কেওড়া গাছ দেখলে সবারই নজর কাড়বে। সুন্দরবন ঘেঁষা নদনদী, খালের চরগুলোতে ব্যাপক হারে কেওড়া গাছ জন্মে। কেওড়া ফলে আপেল ও কমলার তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুন্দরবনের বানর ও হরিণের প্রিয় খাবার এই কেওড়া ফল। সুন্দরবনের হাজার হাজার বানর ও হরিণ এই ফল খেয়ে জীবনধারণ করে। সুন্দরবনের হরিণ আর বানরের উপাদেয় খাদ্য হলেও বহু বছর আগে থেকে মানুষ ও মাছের খাদ্য হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কেওড়া ফলের চাষ ও বাণিজ্যিকীকরণ হলে অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। কেওড়া ফল উপকূলের প্রান্তিক জনসাধারণের বাড়তি আয়ের উৎস। কেওড়া ফলটি টক; কিন্তু স্বাদযুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করে অনেক পরিবারের রুটিরুজির ব্যবস্থা হয়। উপকূলীয় অর্থনীতিতে কেওড়া ফল নতুন মাত্রা আনতে পারে। পরিবেশবিধ শাহীন ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকার অনাবাদী লবণাক্ত জমিতে কেওড়া ফলটি ব্যাপকভাবে জন্মানোর উদ্যোগ নিলে প্রান্তিক জনগণের বাড়তি আয়ের উৎস হবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং উপকূলীয় পরিবেশের গুণগত মানের উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন তিনি। চলতি মৌসুমে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে কেওড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে ফলে ভরে গেছে প্রতিটি গাছ। শ্রাবণ মাস থেকে কার্তিক-অগ্রায়ন মাস পর্যন্ত এই ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছে গাছে প্রচুর ফল ধরে। এ সময় এলাকার হাট-বাজারগুলোতে কেওড়া ফল কিনতে পাওয়া যায়। প্রতি কেজি কেওড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। কেওড়া গাছের সরলপাতা বিপরীতমুখী, ফুল উভলিঙ্গ। ফল প্রায় গোলাকৃতির এবং ব্যাস ২ থেকে ৩ মিলিমিটার। এর পাতা জিওল গাছের পাতার মতো সরু লম্বাটে। ছোট ছোট হলুদ বর্ণের ফুল হয়। এ ফুলের মধুও সুস্বাদু। একটি ফলে বীজের সংখ্যা ২৫ থেকে ১২৫টি। কেওড়া ফলের আকৃতি ডুমুরের মতো। সবুজ রঙের ফলের ওপরের মাংসল অংশটুটু টক স্বাদের। ভেতরে বেশ বড় বীচি। কেওড়া গাছ পরিবেশের ভারসাম্য যেমন রক্ষা করে, তেমনি উপকূলীয় অঞ্চলের রক্ষাকবচ হিসেবেও কাজ করে। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জেলাগুলোর লোকজন কেওড়া ফলের সঙ্গে ছোট চিংড়ি মাছ ও মসুরির ডাল রান্না করে থাকে। তাছাড়া কেওড়া ফল থেকে আচার ও চাটনি তৈরি করা হয়। কেওড়া ফল পেটের অসুখের চিকিৎসায় বিশেষত বদহজমে ব্যবহৃত হয়। নতুন জৈব-বর্জ্য সমৃদ্ধ, মোটামুটি বা অধিক লবণযুক্ত মাটিতে এ গাছ ভালো জন্মায়। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও চীনের বনাঞ্চলে এই গাছ দেখা যায়। কেওড়া চার প্রকারের। এর মধ্যে ওড়া ও কেওড়া বাংলাদেশে পাওয়া যায়। বাকিদের মধ্যে অ্যালবা বোনটা শ্রীলঙ্কায় হয়, আর ওভাটা দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ায়।

মজনু এলাহিশ্যা

মনগর সাতক্ষীর।