মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

শ্যামনগর প্রতিনিধি জি এম রাজু আহমেদ
উপকূলীয় এলাকার নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
“ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস (BID4CJ)” প্রকল্পের আওতায় এই মেশিন বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)। এতে সহযোগিতা করছে অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ান এইড।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে চারজন নারী উদ্যোক্তার মাঝে মোট ৬টি ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এই মেশিনের মাধ্যমে তারা পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন ধরনের পণ্য যেমন—কাপড়, পাট ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ব্যাগ, পোশাক ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করতে পারবেন। ইলেকট্রিক মেশিনের মাধ্যমে কাজ করায় তাদের কর্মঘণ্টা কমে আসবে এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
প্রধান অতিথি মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারীরা শুধু নিজেদের পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নই করবেন না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের উন্নয়ন এবং এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সর্বত্র সহযোগিতা প্রদান করবেন। একই সঙ্গে তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠান কোডেক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ান এইডকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, শ্যামনগরের মানুষের জন্য এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোডেকের ফিল্ড অফিসার গাজী ফারুকসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বিডফরসিজে প্রকল্প অফিস প্রাঙ্গণে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কোডেকের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. সোহরাব হোসেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় তিনি বলেন, “ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস (BID4CJ)” প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। ইলেকট্রিক সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নারীরা কম সময়ের মধ্যে বেশি পণ্য উৎপাদন করতে পারবেন, যা তাদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেশিন পাওয়া নারী উদ্যোক্তারা আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এই ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন পাওয়ার মাধ্যমে তারা অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করতে পারবেন। এতে তাদের আয় বাড়বে এবং ভবিষ্যতে নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নারী উদ্যোক্তারা এই উদ্যোগের জন্য প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক), সহযোগী প্রতিষ্ঠান অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ান এইড-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা উপকূলীয় এলাকার নারীদের উন্নয়ন ও টেকসই জীবিকায়ন নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।