মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন

রিপোর্ট: ভয়েস অফ সুন্দরবন
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি চুরির ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে এবং তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার পর শ্যামনগর উপজেলার ফুলতলা মাজাট এলাকার মোঃ মোদাচ্ছের আলম লিটনের বাড়ি থেকে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ড্রয়ারে রাখা বিভিন্ন স্বর্ণ ও রুপার অলংকার চুরি হয়। চুরি হওয়া অলংকারের মধ্যে ছিল দুইটি স্বর্ণের রুলি, ছয় জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি স্বর্ণের গলার নেকলেস, দুইটি স্বর্ণের চেইন, পাঁচটি স্বর্ণের নাকফুল, একজোড়া স্বর্ণের ঝুমকা, দুই জোড়া রুপার পায়ের নুপুরসহ অন্যান্য অলংকার।
ঘটনার পর শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। গত ৮ মার্চ ২০২৬ রাতে ঢাকার আশুলিয়া থানার নলাম বাগবাড়ি এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, চুরি করা কিছু স্বর্ণালংকার তার ভাই শেখ শিমুল হোসেন (৩০) এর কাছে রয়েছে।
পরে সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার নয়াডিঙ্গি গ্রামে অভিযান চালিয়ে শেখ শিমুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল জানায়, সে স্বর্ণালংকারগুলো তার বোন জাকিয়া সুলতানার কাছে রেখেছে।
এরপর ১ ও ২ নম্বর আসামিকে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার জায়গির এলাকায় জাকিয়া সুলতানার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তার ঘরের স্টিলের বাক্স থেকে বিভিন্ন স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে একটি স্বর্ণের নেকলেস, এক জোড়া স্বর্ণের রুলি, কয়েক জোড়া কানের দুল, তিনটি স্বর্ণের আংটি, দুটি লকেট ও একটি নাকফুল। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা।
এছাড়া গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ থানার মৌতলা বাজারের একটি স্বর্ণের দোকান থেকে একটি আংটি, একটি চেইন ও একজোড়া ঝুমকার গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একই মামলার আরেক আসামি সবুজ (পিতা- জহুরুল, সাং- ফুলতলা মাজাট) কে গ্রেফতার করা হয় এবং তার মাধ্যমে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা দুইটি স্বর্ণের আংটি ও একটি চেইনের স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।