শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন

রিপোর্ট : শ্যামনগর প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুনামধন্য জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ভাবমূর্তি নষ্ট করে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে মেতেছেন নব্য বিএনপি সাজা আসাদুজ্জামান মিঠু নামে এক আওয়ামী লীগ দোসর।
সম্প্রতি বিএনপির এই নেতার দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। ‘বিএনপির লোক হলে অবৈধ জমি দখল করা যাবে’—এমন সরাসরি বা পরোক্ষ ইঙ্গিতে দেওয়া ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য বিএনপির দীর্ঘদিনের লড়াই এবং বর্তমান ‘ক্লিন ইমেজ’ গড়ার প্রচেষ্টাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
গত ২৬ শে মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওয়াবেকি বাজার ফেরিঘাটে জনসম্মুখে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপির লোক হয়েও যদি তারা সুযোগ-সুবিধা না পান বা জমি দখল করতে না পারেন, তবে দল করার সার্থকতা কোথায়। তার এই বক্তব্য প্রচার হওয়ার পরপরই তৃণমূল পর্যায়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বিএনপি যখন বারবার দখলবাজি, চাদাবাজি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে, ঠিক সেই সময়ে একজন দায়িত্বশীল নেতার এমন বক্তব্য দলটিকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, আসাদুজ্জামান মিঠু আওয়ামীলীগ কে পূর্ণবাসন করতে স্বনামধন্য জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে।
এই ঘটনার পর বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন, বিএনপি বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে যে, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ দখলদারিত্বে জড়ালে তাকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। দল কোনোভাবেই এ ধরনের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। দলের পক্ষ থেকে খুব শিঘ্রই অভিযুক্ত নেতা মিঠু কে এই কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য কেন দিয়েছে তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নেতার মুখ থেকে এমন অগণতান্ত্রিক এবং আইনবিরোধী বক্তব্য অনভিপ্রেত। এটি কেবল সেই নেতার ব্যক্তিগত দায় নয়, বরং পুরো দলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে বিএনপিকে এই ‘দখলবাজি মানসিকতা’র বিরুদ্ধে আরও কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান মিঠুর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওটা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও এসেছে আমাদের হাতে যা অফিসের ডেক্সে সংরক্ষিত।