রিপোর্ট: ভয়েস অফ সুন্দরবন
" বইপোকা " নামের সুন্দর একটি গল্পে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ও সব শ্রেণীর দর্শকদের প্রিয় অভিনেতা অভিনয়ের যাদুকর খ্যাত অভিনেতা মোশারফ করিম। তার সাথে জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের আর এক জনপ্রিয় মুখ নীলাঞ্জনা নীলা। বইপোকা নাটকটি ০১-লা মে শুক্রবার রাত ০৭.৪০ মিনিটে এটিএন বাংলা (ATN Bangla) টেলিভিশন চ্যানেলে এবং ০২-মে, শনিবার- দুপুর ০২.০০টা থেকে বিন্দু ভিশন (Bindu Vision) ইউটিউব চ্যানেলে দর্শকেরা দেখতে পাবেন।
এই সুন্দর গল্পের নাটকটি রচনা করেছেন বর্তমান সময়ের তরুন জনপ্রিয় নাট্যকার আল আমিন স্বপন।
নাটকটিতে আরো অভিনয় করেছেন শেখ মাহবুবুর রহমান, লিপু মামা, সাবিনা রনি, মুকুল সিরাজ, ইমরান আজান, ইমরান হাসো, মোহাম্মদ রফিক, ফাহামিদা তৃষা, লিমন আহমেদ, মহসিন আকাশ, প্রিম রোজ সহ আরো অনেকে।
বইপোকা একটি ভিন্ন মাত্রার বিনোদন নির্ভর গল্প। পরিচালক রাজ্জাক রাজ এই অসাধারণ সুন্দর গল্পের নাটকটি নির্মাণে ও প্রচারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক দিয়ে সার্বিক সহযোগিতার জন্য অভিনেতা মোশাররফ করিম, অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুই, বাস এইচডি এর কর্ণধার বি ইউ শুভ, বিন্দু ভিশন এর কর্ণধার আফরিনা রহমান, পরিচালক- সোহেল রানা ইমন, মহসিন আকাশ, তাইফুর জাহান আশিক, সরদার রোকন, পথিক সাধন, আহসান হাবীব আকিক, আল আমিন স্বপন সহ পরিচালকের বাবা-মা, স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের অন্যদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বইপোকা নাটকের গল্পটি গাজীপুরের পূবাইলের সুন্দর সুন্দর গ্রামীণ লোকেশনে শুটিং করা হয়েছে। নাটকটিতে চিত্রগ্রহণের কাজ করেছেন সামসুল ইসলাম লেলিন, ফোরকান উদ্দিন, জি এস চঞ্চল।। প্রধান সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন আরিফুর রহমান রাহুল। বইপোকা নাটকের গল্প সম্পর্কে পরিচালক বলেন গল্পের হাসান জহির চরিত্রে অভিনয় করা মোশাররফ করিম শহরের অনেক বেতনের চাকরি আর বিলাশ বহুল জীবন ত্যাগ করে তার স্ত্রী মনীষা চরিত্রে অভিনয় করা নীলাঞ্জনা নীলা'কে নিয়ে গ্রামে চলে আসে বর্তমান সময়ের নানান অবক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার তাগিদ নিয়ে। গ্রামে এসে হাসান নিজে ক্ষেতে কৃষি কাজ করার পাশাপাশি মানুষের পেছনে পেছনে বই নিয়ে ঘোরে তাদেরকে বই পড়ানোর মাধ্যমে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে।
তার ধরণা মানুষ মানুষকে ছেড়ে গেলেও বই কখনো ছেড়ে যায় না। গ্রামের যেখানেই সে কোন রকম অসংগতি, বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা দেখে সেখানেই বই নিয়ে হাজির হয়ে প্রত্যেককে যার যে বিষয়ে জ্ঞান কম সেই বিষয়ের বই দিতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো কেউ তার দেওয়া বই নিতে চায় না সবাই নিজেদেরকে মহা জ্ঞানী মনে করে। একজন বউকে মেরে বাপের বাড়ি পাঠাতে চায় বাইক কিনবে বলে যৌতুক আনার জন্য সেখানে হাসান জহির হাজির হয় বলে- মেয়ের বাপ তাকে কষ্ট করে লালন পালন করে বড় করে তোর সাথে বিয়ে দিয়েছে কি তোকে যৌতুক দেওয়ার জন্য? তাদেরকে বই পড়ার জন্য বই দিতে গেলে তারা তা না নিয়ে বরঞ্চ হাসানকে অপমান করে। গ্রামের দূর্নীতিবাজ অসৎ মেম্বর, স্কুলে ছাত্র ছাত্রদের পড়ানোর নামে অযথা বেত্রাঘাত করা মাস্টার, দোকানদার, দুধ বিক্রেতা গোয়ালা, স্কুল কলেজ পড়ুয়া বখে যাওয়া নেশাগ্রস্থ ছাত্র থেকে শুরু করে সবাইকে সে বই পড়ে সঠিক পথে আসতে বলে। কিন্তু কেউই তার যুক্তি মানে না, কথা শোনে না, বই পড়ে না। উল্টো তার বাড়িতে গিয়ে শ্বাশুড়ির সামনে বউয়ের কাছে বিচার দিয়ে আসে। বাড়ি ফেরার পরে বউ বকাবকি করে যখন বলে এমন করলে আমি আর তোমার সংসারই করবো না। তখন হাসান বলে- সংসার মানে ব্যর্থ বাসনা, বেদনার জলাভূমি- সংসার মানে সংসার ভাঙা, সংসার মানে তুমি। এই কথা শুনে বউ পটে যায় তখন আর কিছু বলে না। তার বাড়িতে বেড়াতে আসা শালী যে কিনা বলে মেকাপ করে কুল পাইনা বই পড়বো কখন। সে সারাদিন খালি টিকটক করে। হাসান সেই শালীকেও খুটির সাথে বেধে রেখে বই পড়াতে চায়। হাসান তার নিজের জমি বিক্রি করে গ্রামে লাইব্রেরি স্থাপনের চিন্তা করে। এইভাবে বিভিন্ন হাস্য রসাত্বক ও জ্ঞান বিতরণের ঘটনার মাধ্যমে গল্পটি এগিয়ে চলে। কিন্তু গ্রামের মেম্বরের পরামর্শে পথভ্রষ্ট কিছু মানুষ যারা হাসানের এই সব ভালো কাজ পছন্দ করতো না, তারা পরিকল্পনা করে হাসানকে মিথ্যা মোবাইল চুরির দায়ে ব্যপকভাবে মারধোর করে এবং মেম্বর বাড়িতে নিয়ে বেধে রেখে নিজেরাই বিচার করতে থাকে। এরই মাঝে হঠাৎ এসে হাজির হয় এলাকার চেয়ারম্যান যে কিনা এতোদিন গ্রামের মানুষের এই সব অপকর্মের কথা জানতো না।
কি হবে এখন?
কি হবে শেষ পর্যন্ত? হাসান জহির চরিত্রে অভিনয় করা মোশাররফ করিম কি পারবে তার গ্রামের সবাইকে বই পড়ানোর মাধ্যমে জ্ঞানে আলো জ্বালাতে? সে কি কি পারবে সমাজের নিচে পড়া মানুষদেরকে উপরে ওঠাতে? সে কি পারবে বইয়ের জ্ঞানের মাধ্যামে ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের দূর্নীতিগ্রস্থ মানুষদের পরিবর্তন করতে?
এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আপনাদের অবশ্যই অবশ্যই বইপোকা নাটকটি দেখতে হবে। বইপোকা নাটকের পরিচালক রাজ্জাক রাজ আরো বলেন এই নাটকটি মানুষকে সুস্থ্য বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি সমসাময়িক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষাও দেবে। তিনি সবাইকে বইপোকা নাটিকটি অবশ্যই অবশ্যই দেখার জন্য এবং দেখে সঠিক যুক্তিযুক্ত মন্তব্য করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।