বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
শ্যামনগরে কৃষি পুনর্বাসন প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নারিকেলের চারা বিতরণ শ্যামনগরে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন (জুন-২০২৬) উপলক্ষ্যে অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত অবৈধ দখলমুক্তির দাবিতে চালিতাঘাটা হাট বাজারে মানববন্ধন শ্যামনগরে বর্ষীয়ান জননেতা আলহাজ্ব মাষ্টার আব্দুল ওয়াহেদ স্যারের সম্মানে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কোস্টাল ইয়ুথ সোসাইটির উদ্যোগে শ্যামনগরে ফুটবল প্রিয় যুবকদের মাঝে বল বিতরণ করা হয়েছে  গরিবের আশ্রয়স্থল মানবিক চিকিৎসক: ডা. শাকিরের ব্যতিক্রমী সেবা শ্যামনগরে আলোচিত শ্যামনগরে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারকে ইউনিসেফের সহায়তায় ফ্যামিলি কিট বিতরণ সুন্দরবন সংলগ্ন দুই নদী থেকে রাতে দিনে লক্ষ লক্ষ ফুট বালি লুটের অভিযোগ  শ্যামনগরে বেড়ীবাঁধ রক্ষা করতে যেয়ে পুরা গ্রাম হুমকির মধ্যে,পাউবো কর্মকর্তার অপসারণ দাবী  সুন্দরবন সংলগ্ন দুই নদী থেকে রাতে দিনে লক্ষ লক্ষ ফুট বালি লুটের অভিযোগ  শ্যামনগরে বেড়ীবাঁধ রক্ষা করতে যেয়ে পুরা গ্রাম হুমকির মধ্যে,পাউবো কর্মকর্তার অপসারণ দাবী 
এইমাত্র পাওয়া:
চোখ রাখুন

চট্টগ্রামে জোর করে পদত্যাগ করানো উপাধ্যক্ষের মৃত্যু!  

স ম জিয়াউর রহমান
Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন

 

 

 

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :

চট্টগ্রামর হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ এস এম আইয়ুব (৫৯) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। আজ ২৩ নভেম্বর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর কলেজের উপাধ্যক্ষ পদ থেকে তাকে জোর করে পদত্যাগ করানোর বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা ওঠে এসেছে। কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা শোক জানানোর পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

এরই মধ্যে শনিবার দুপুরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সাবেক উপাধ্যক্ষ এস এম আইয়ুবের মরদেহ স্ট্রেচারে করে হাসপাতাল থেকে বের করা হচ্ছে। চারপাশে আহাজারি করছেন স্বজন, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

জানা যায়, শনিবার সকালে তিনি অসুস্থতাবোধ করলে তাকে নগরের একটি বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কলেজ সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের বেতন কমানো, আইডি কার্ড প্রদান করাসহ চার দফা দাবিতে গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ করেন কলেজের একদল শিক্ষার্থী। গত ২৪ সেপ্টেম্বর পদত্যাগপত্র লিখে জোর করে তার কাছ থেকে সই করানো হয়। পদত্যাগপত্র আদায়ে সই নেওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ৩৩ বছর ধরে ওই কলেজে শিক্ষকতা করা এই শিক্ষক। সেদিনের পর থেকে আর কলেজে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেননি তিনি। গত সোমবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে অ্যাডহক কমিটির মিটিং না হওয়ায় এখনও পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। জোর করে নেওয়া পদত্যাগপত্রও কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এখনও গ্রহণ করা হয়নি বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এই আগে জাতীয় ও স্হানীয় একাধিক দৈনিক পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিতও হয়।

এস এম আইয়ুবের তিন ছেলে। সবাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। তারা থাকেন নগরের কলেজ সংলগ্ন মৌলভি পুকুরপাড় এলাকায়। তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীর ৬ নম্বর বৈলছড়ি ইউনিয়নে।

অধ্যাপক এস এম আইয়ুবের মৃত্যুর বিষয়ে তার ভাগনে মোফাজ্জেল হাসান বলেন, ‌‘শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ মামা অসুস্থ বোধ করেন। পরে তাকে নগরের বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মামার মৃত্যু হয়। তিনি স্ট্রোক করেন। জোর করে পদত্যাগ করানোর বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন মামা। মামার তিন ছেলে। সবাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। তারা থাকে নগরের মৌলভি পুকুরপাড় এলাকায়। গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীর ৬ নম্বর বৈলছড়ি ইউনিয়নে। মামাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।

হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার হাসান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছাত্র হিসেবে আমরা লজ্জিত। আপনার এভাবে পরিণতি হবে চিন্তাও করতে পারলাম না। অপমান মেনে নিতে পারলেন না স্যার। শেষ পর্যন্ত না-ফেরার দেশে চলে গেলেন।’

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ চয়ন দাশ বলেন, ‘এস এম আইয়ুবের কোনও রোগব্যাধি ছিল না। জোরপূর্বক পদত্যাগের ঘটনার পর আর কলেজের শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেননি। এর মধ্যে ১৮ নভেম্বর ডাকযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সেখানে ব্যক্তিগত কারণ দেখান। তিনি খুব ভালো শিক্ষক ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ব্যথিত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আইয়ুব স্যার একজন ভালো শিক্ষক ছিলেন, তার মতো শিক্ষক হয় না। তার মৃত্যু আমাদের শিক্ষা জীবনের জন্য অনেক ক্ষতি হবে। তিনি হাজরা তজু কলেজের জন্য অনেক করেছেন। এভাবেই তার বিদায় মেনে নেওয়া যায় না। তারা সরকারের কাছে স্যার থেকে জোর করে পদত্যাগ পত্র নেওয়ায় জারিতদের দায়ী করেন এবং তাদের বিচার করার জোর দাবি জানান।